

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয় দিয়ে রাজধানীর বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় বিভিন্ন দোকানপাট এবং নির্মাণাধীন নতুন ভবন থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ‘দিপু’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে হাতিরঝিল থানার ওসি কিংবা থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন ওই ব্যক্তি। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকান মালিক এবং নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকার কয়েকটি দোকান এবং নতুন ভবন নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে দিপু নামের ওই ব্যক্তি থানার পরিচয় দেন। কখনো আইনগত ঝামেলার ভয় দেখিয়ে, আবার কখনো থানায় অভিযোগ বা পুলিশি অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের কয়েকজন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তার কথাবার্তা ও আচরণ এমন ছিল যে, তিনি যেন স্থানীয় থানার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কারণে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে দাবিকৃত টাকা দিয়েছেন। কয়েকজন ব্যবসায়ী বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
শুধু দোকানপাট নয়, বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় নির্মাণাধীন নতুন ভবনগুলোকেও চাঁদাবাজির লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভবন নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া, পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা এবং বিভিন্ন ধরনের আইনি জটিলতায় ফেলার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘থানার ওসি পরিচয় দিয়ে কথা বলায় প্রথমে আমরা বিষয়টি সত্যি মনে করি। পরে তার আচরণে সন্দেহ তৈরি হয়। কিন্তু পুলিশের ভয় থাকায় তখন প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি।’
আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ‘টাকা না দিলে দোকানে সমস্যা হবে, পুলিশ পাঠানো হবে—এমন ভয় দেখানো হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে বুঝতে পারি, তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে দিপুর বক্তব্যও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ওসি পরিচয় কীভাবে ব্যবহার করতেন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিপু কখনো সরাসরি নিজেকে হাতিরঝিল থানার ওসি হিসেবে পরিচয় দিতেন, আবার কখনো থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে প্রভাব বিস্তার করতেন।
পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। কারণ এতে শুধু ভুক্তভোগীদের আর্থিক ক্ষতিই হয় না, পুলিশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দিপু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের প্রভাব দেখিয়ে আসছেন। তবে তিনি সত্যিই কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা থানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, নাকি সম্পূর্ণ ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছেন—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করে থাকলে তাকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে কারা তাকে সহযোগিতা করছে, কোনো পুলিশ সদস্য তার পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে কি না এবং চাঁদাবাজির অর্থ কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাড্ডা ও শাহজাদপুরের ব্যবসায়ী ও ভবন মালিকদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দিপুর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।