
ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘অ্যাকশন কিং’ রুবেল। মার্শাল আর্টের অ্যাকশনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন এই চিত্রনায়ক। বাণিজ্যিক ঘরানার বাংলা সিনেমার দর্শকের কাছে তার সিনেমা মানেই অন্য কিছু। চলচ্চিত্রজুড়ে রুবেলের মারমার কাটকাট সংলাপ আর কুংফু-কারাতের ফাইট।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘লড়াকু’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি জগতে পা রাখেন রুবেল। তারপর কখনো ড্রাংকেন কুংফু, কখনো উইপিং কুংফু, কখনো ড্যান্সিং কুংফুর ম্যাজিক দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। অথচ বিস্ময়কর ব্যাপার হলো—নায়ক হওয়ার কথা কখনো চিন্তাও করেননি এই তারকা। কয়েক দিন আগে একটি টিভি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নায়ক হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন রুবেল।

বড় ভাই সোহেল রানার সঙ্গে রুবেল
ঘটনা বর্ণনা করে রুবেল বলেন, “একদিন হঠাৎ করে ভাইয়া (সোহেল রানা) বললেন, ‘রুবেল তুই তো ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিস। তুই তোর গোল্ড মেডেল ও কারাতের পোশাক নিয়ে উত্তরার বাসায় আয়।’ তারপর আমি উত্তরার বাসায় গেলাম। গিয়ে দেখি—খলিল, শহীদুল ইসলাম খোকন, ক্যামেরাম্যান হাসান এবং এডিটর জিন্নাহ বাসায় বসা। আমি বললাম, ‘তোমরা সবাই এখানে কী ব্যাপার?’ কিন্তু ওরা কেউ কিছু বলল না!”
পরের ঘটনা স্মরণ করে রুবেল বলেন, “কতক্ষণ পর খলিল আমাকে মেকআপ দিলো। তারপর কারাতে ড্রেস পরে, গলায় গোল্ড মেডেল ঝুলিয়ে আমার কিছু ছবি তুললো। ছবি তোলা শেষ হওয়ার পর জানতে পারলাম—আমি নায়ক হতে যাচ্ছি। এ ঘটনার এক/দুই সপ্তাহ পরে আমার ছবি ব্যবহার করে ‘লড়াকু’ নাম দিয়ে একটি পোস্টার আসে। আমি নায়ক হতে যাচ্ছি—এটা আমার চিন্তার মধ্যেও ছিল না।”

‘লড়াকু’ সিনেমার পোস্টার
১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লড়াকু’ সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় রুবেলের। প্রথম সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে গুরুত্বর আহত হয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনা বর্ণনা করে রুবেল বলেন, “কবীর খাঁর সঙ্গে আমার ঝুঁকিপূর্ণ একটি শট ছিল। শটটা এমন ছিল—ওর কাঁধের ওপর উঠে, তারপর আমার ওপরে প্রেসার দিয়ে যেতে হবে। এটা করতে গিয়ে আমার স্পাইনাল কর্ড ডিসলোকেট হয়ে যায়। আমি ঘাড় নাড়াতে পারতাম না। ডাক্তার দেখানোর পর, আমাকে ৬ মাস ট্র্যাকশন দিতে হয়েছিল। তারপর আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়।”
‘লড়াকু’ সিনেমা পরিচালনা করেন শহীদুল ইসলাম খোকন। মার্শাল আর্ট ও ফাইটিং দৃশ্যের জন্য এই সিনেমা দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। আর অভিষেক সিনেমা দিয়েই বাজিমাত করেন রুবেল। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কেবল তাই নয়, এই সিনেমার মাধ্যমেই কুংফু, কারাতে মার্শাল আর্টের অ্যাকশন জনপ্রিয়তা পায়।

একটি সিনেমার দৃশ্যে রুবেল
‘লড়াকু’ মুক্তির পর ঢাকাই সিনেমার ‘ব্রুসলি’ বলা হতো রুবেলকে। আশি ও নব্বই দশকে এই ইন্ডাস্ট্রি মার্শাল আর্টে মাতিয়ে রেখেছিলেন। এমনকি, তারপরই মার্শাল আর্টের প্রতি ঝুঁকে পড়ে বহু কিশোর-তরুণ। এরপর ধারাবাহিকভাবে মুক্তি পায় রুবেল অভিনীত ‘উদ্ধার’, ‘বীরপুরুষ’, ‘বজ্রমুষ্ঠি’, ‘হুংকার’, ‘বীরবিক্রম’, ‘আমিই শাহেনশাহ’, ‘বিষদাঁত’, ‘বজ্রপাত’, ‘ইনকিলাব’। আর সব কটি সিনেমাই সুপারহিট। অভিনয় ক্যারিয়ারে তিন দশকের বেশি সময় পার করেছেন রুবেল। প্রায় ২৫০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।