
দেশের এভিয়েশন খাতে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দামে রেকর্ড ভাঙা উল্লম্ফন ঘটেছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই জ্বালানির দাম বেড়েছে প্রায় ১৪০ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম যেখানে ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা ছিল, এপ্রিল মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২২৭ টাকা ৮ পয়সায়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
তিন মাসের তুলনামূলক চিত্র
বিইআরসি-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের শুরুতে জেট ফুয়েলের দাম অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে ছিল। জানুয়ারি মাসে প্রতি লিটার তেলের দাম ১০৪ টাকা ৬১ পয়সা থেকে কমিয়ে ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসেও দাম ছিল স্থিতিশীল; সে সময় মাত্র ১৯ পয়সা বাড়িয়ে লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।
ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মার্চ মাসে। প্রথম দফায় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে একলাফে দাম বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ২৪ মার্চ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ এপ্রিলে তা আরও বেড়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সায় পৌঁছাল।
এভিয়েশন খাতের উদ্বেগ
জেট ফুয়েলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিকে দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য ‘অত্যন্ত ক্ষতিকর ও অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটি এই সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানির এই উচ্চমূল্য বিমান ভাড়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে, যা যাত্রী ও পর্যটন খাতের জন্য চরম নেতিবাচক হতে পারে।