
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম সরকার গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির সমালোচনা করে বলেছেন, “এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার তার বৈধতা (লেজিটিমেসি) হারিয়েছে।”
তার মতে, “সরকার জনগণের আস্থা হারিয়েছে, যার ফলে একটি সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, “কাঠামোগত সংস্কার না হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। এমনকি বর্তমান সরকারের মধ্যেও স্বৈরাচারী প্রবণতা রয়েছে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবি বাস্তবায়ন না করলে সরকারের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।”
এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করে বলেন, “সংস্কার, বিচার এবং পতিত স্বৈরাচারী শক্তিকে প্রতিরোধের প্রশ্নে সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক সংস্কারের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। সরকার গণভোটের রায়কে সম্মান না জানিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দলীয়ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।”
সরকারি উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এতে ইতিহাস বিকৃতি, দলীয়করণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার অভাব ছিল।”
তিনি দাবি করেন, “যেভাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয়করণ করেছিল, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে।”
নাহিদ ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, “৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি কর্মসূচিতে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটেছে।”
দিল্লিতে অবস্থানরত ‘পতিত স্বৈরাচারী শক্তি’ সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ পাওয়াকে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনকে তলব করে সরকারের কঠোর প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল।”