
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এমন কিছু ‘অস্ত্র’ রয়েছে; যেগুলো আমরা এখন পর্যন্ত ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি। তবে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর প্রয়োগ এড়ানো যাবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।
ইরানকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শেষ হওয়ার আগে ওই মন্তব্য করেছেন জেডি ভ্যান্স। যদিও সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আজ রাতে ইরানি সভ্যতার মৃত্যু ঘটতে পারে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।
হাঙ্গেরি সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যগুলোর অধিকাংশই অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, এখন থেকে সেই সময়ের মধ্যে আরও অনেক আলোচনা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ১২ টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এই আলোচনা হতে পারে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।
জেডি ভ্যান্স বলেছেন, তাদের (ইরান) জানা উচিত, আমাদের হাতে এমন সব ব্যবস্থা রয়েছে; যা আমরা এ পর্যন্ত ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সেগুলো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং ইরানিরা যদি তাদের আচরণের ধারা পরিবর্তন না করেন, তাহলে তিনি অবশ্যই সেগুলো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সব শর্ত কিংবা দাবি মেনে নেওয়া না হলে ইরানে আজকেই একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ওই হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ভয়াবহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সকল শর্ত বা দাবি মেনে না নেয়, তাহলে মঙ্গলবার দেশটিতে ‘‘একটি আস্ত সভ্যতার মৃত্যু ঘটতে পারে।’’
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা মারা যাবে; যা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, তবে সম্ভবত এটি হতে চলেছে।’’ পোস্টের শেষে তিনি বলেছেন, ‘‘কে জানে কী হয়?’’
যদিও ইরানকে দেওয়া মঙ্গলবারের আল্টিমেটামের পর কী করবেন ট্রাম্প, সেই বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও তথ্য জানাননি তিনি। তবে এর আগে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে বোমা হামলা চালিয়ে দেশটিকে ‘পাথর যুগে’ পাঠিয়ে দিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানি ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এমন হুঙ্কার তার দিন দিন আরও ‘ক্ষুব্ধ ও বেপরোয়া’ হয়ে ওঠারই লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আহমাদিয়ান।
তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের সুর দিন দিন আরও কঠোর হচ্ছে, যা আমার কাছে মনে হচ্ছে তিনি আসলে সংকটে আছেন। তিনি চাইছেন তার হুমকিগুলো ইরানিদের কাছে আরও গুরুতরভাবে পৌঁছে যাক এবং তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করুক।
ইরানি এই অধ্যাপক বলেন, ট্রাম্প নিজের সব হুমকি বাস্তবায়ন করতে না পারলেও ইরানকে আরও কঠোরভাবে আঘাত করার ক্ষমতা রাখেন। আর তেহরানও এর সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
আহমাদিয়ান বলেন, ‘‘এটি এক ভয়াবহ চোরাবালি; যা যুদ্ধ শুরুর সাথে সাথেই তৈরি হয়েছিল। নিজের কোনও লক্ষ্য অর্জন করতে না পেরেই ট্রাম্প এই ধারা অব্যাহত রেখেছেন।’’