
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে নগর প্রশাসনে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, জাতীয় সংসদের পরিবর্তে নগর ব্যবস্থাপনায় সরাসরি দায়িত্ব পেলে তিনি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বিজয়ী হন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস। ভোটের ব্যবধান ছিল ৫ হাজার ২৩৯। তবে ব্যবধান কম হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে এই ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ। তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠিত বড় দলের প্রার্থীর বিপরীতে নতুন ধারার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়া নগর রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
ভোট-পরবর্তী সময়ে ফেসবুক ও এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে পাটওয়ারীর প্রচারণা, মাঠকেন্দ্রিক তৎপরতা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বিরোধী বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। তরুণ ভোটারদের একটি অংশ তাঁর পক্ষে সক্রিয় ছিল বলেও একাধিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। অনলাইনভিত্তিক সমর্থকগোষ্ঠীর পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, নগর সেবা ও শুদ্ধি অভিযানের মতো কার্যক্রম পরিচালনায় মেয়র পদ বেশি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি জাতীয় নাগরিক পার্টি।
দলীয় পর্যায়ের নেতারা বলছেন, সিটি নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং সময় হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের নগর নির্বাচনে ইস্যুভিত্তিক ভোটের প্রবণতা বাড়ছে। নাগরিক সেবা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সন্ত্রাস দমন—এসব প্রশ্নে ভোটাররা আগের চেয়ে বেশি সচেতন। সে কারণে জাতীয় নির্বাচনে আলোচিত কোনো প্রার্থী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিলে তা ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।