
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল বাংলাদেশের প্রাচীনতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার। সেই প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত। তবে দুঃখজনকভাবে, একটানা দীর্ঘ সময় ধরে ডাকসু নির্বাচন অনিয়মিত ছিল—যেখানে শেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে, দীর্ঘ ২৮ বছর পর।
বর্তমানে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বমূলক প্ল্যাটফর্মে ফেরার সুযোগ তৈরি হলে, তা একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের অধিকার ও দাবির ক্ষেত্রে কার্যকরী হবে, অন্যদিকে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ডাকসু নির্বাচন একটি শুধু সাংগঠনিক বা আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব গঠনের প্রশিক্ষণক্ষেত্র। এ প্ল্যাটফর্ম থেকেই অতীতে উঠে এসেছেন বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ। তাই এই নির্বাচন শুধুই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যতের ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী একটি ক্ষেত্র।
তবে, ডাকসু নির্বাচনের বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান। প্রথমত, প্রশাসনিক সদিচ্ছা এবং স্বচ্ছ নির্বাচন পরিচালনার নিশ্চয়তা দরকার। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। এছাড়াও, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সকল ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত ও নীতিগত প্রস্তুতি গ্রহণ করাও জরুরি।
আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ ডাকসু নির্বাচন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। একটি সক্রিয় ডাকসু মানেই একটি সচেতন ও অধিকার সচেতন ছাত্রসমাজ। আর এই সচেতনতা থেকেই গড়ে উঠবে একটি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।
মাহফুজুল আলম খোকন, লেখক ও সাংবাদিক,