
সৌদি আরবে একটা সময় নারীদের কাজ করার সুযোগ খুব বেশি ছিল না। শিক্ষা-দীক্ষাতেও তারা পিছিয়ে ছিল। বেশিরভাগ নারী থাকতেন ঘরে। কর্মক্ষেত্রে তাদের একদম দেখাই যেত না। তবে ইসলামি শরীয়াহ আইনে চলা দেশটিতে এই চিত্রের অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। দেশটির নারীরা এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। এ সংখ্যাটিও বেশ চমকপ্রদ।
সৌদির জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকস তাদের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বছর সৌদি নারী সংখ্যা ৯৮ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। নারীদের মধ্যে কর্মসংস্থান অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৮ শতাংশে, আর কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বেড়ে হয়েছে ৩৬ শতাংশ।
এই উন্নতির পাশাপাশি, নারীদের বেকারত্বের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের শেষ তিন মাসে বেকারত্বের হার ছিল ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।
যা ২০২৩ সালের একই সময়ে ছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং খেলাধুলায়ও সৌদি নারীরা দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। ২৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশের বেশি নারী স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী। ২০২৪ সালে ২২ জন নারী নতুন উদ্ভাবনের জন্য সহায়তা পেয়েছেন। অপরদিকে নারী ক্রীড়াবিদরা ১ হাজার ৯৫৬টি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক খেলায় পুরস্কার জিতেছেন।
সংস্থাটির প্রকাশিত “সৌদি উইমেন রিপোর্ট ২০২৪” নামে এ প্রতিবেদনে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি এবং অবসর সময় কাটানোর বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে। এরমাধ্যমে সৌদির নারীদের বর্তমান অবস্থার একটি সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেড়েছে। গত বছর প্রায় ৯ লাখ ৯৭ হাজার সৌদি নারী বেসরকারি খাতে, ৫ লাখ ৬ হাজার সরকারি খাতে এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ জন বৃহত্তর জনসেবা খাতে কাজ করছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একজন সৌদি নারী সপ্তাহে গড়ে ৩৯ ঘণ্টা কাজ করেন।
এরমধ্যে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীরা মাসে ৪ হাজার ৮৩২ রিয়াল, ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীরা ৮ হাজার ৩২৮ রিয়াল এবং ৫৫ বা তার বেশি বয়সী নারীরা ১০ হাজার ৭৩৯ রিয়াল আয় করে থাকেন।
সূত্র: আশরাক আল-আওসাত