
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এখনও অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষ করে ৪জি সেবার মান আশানুরূপ নয়। তবে এটি কোনো একটি অপারেটরের দায় নয়, বরং আমাদের সবার ব্যর্থতা। ভালোমানের ৪জি দিতে না পারার কারণে ব্যবসায়িক ও ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধিও ব্যাহত হচ্ছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবি আজিয়াটা পিএলসির কর্পোরেট অফিসে বাণিজ্যিক ৫জি সেবা চালুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, রবি সবসময় নতুন প্রযুক্তি চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী। আজ তারা প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ৫জি চালু করল। তবে এই প্রযুক্তি কেবল শহুরে ধনী বা অভিজাত সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সবখানে ছড়িয়ে দিতে হবে।
৫জি সেবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৫জি একটি ‘লেটেন্সি গেম’। অর্থাৎ নেটওয়ার্কের প্রতিক্রিয়া সময় কমানোই এর মূল বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই প্রযুক্তি চালু করব? এর উত্তর হলো—৫জি চালুর আগে আমাদের প্রয়োজন যথাযথ ব্যবহারক্ষেত্র বা ইউজ কেস। বাংলাদেশে এ ধরনের ইউজ কেস এখনো যথেষ্ট তৈরি হয়নি। এগুলো সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগেই গড়ে তুলতে হবে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, ৫জি কার্যকরভাবে চালু করতে হলে কেবল ৭০০ মেগাহার্টজ নয়, ৮০০, ৯০০-সহ অন্যান্য নিম্ন ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সিও দ্রুত উন্মুক্ত করতে হবে। ‘নিম্ন ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি দূরত্বে সিগন্যাল বহন করতে সক্ষম। কেবল উচ্চ ব্যান্ডে সীমাবদ্ধ থাকলে শহর বা গ্রাম কভারেজ নিশ্চিত করতে বেশি সংখ্যক টাওয়ার বসাতে হবে। তাই স্পেকট্রাম ধাঁধার সমাধান এখন জরুরি।
ডিভাইসের সক্ষমতা প্রসঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিভাইস সহজলভ্য করতে কিস্তিভিত্তিক বিক্রয় ব্যবস্থার প্রয়োজন। এতে ব্যবহারকারীরা সহজে নতুন প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারবেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ৫জি প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। একজন রিকশাচালক যেন তার ব্যাটারিচালিত রিকশায় কত ঘণ্টা চালানো যাবে, সেই তথ্য সহজে জানতে পারে—এমন ব্যবহার তৈরি করাই হবে আসল সাফল্য।’
পুরোনো প্রযুক্তি ধাপে ধাপে বন্ধ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, একসঙ্গে ২জি, ৩জি, ৪জি, ৫জি—চার প্রযুক্তি চালানো কোনো অপারেটরের জন্যই টেকসই নয়। তাই দ্রুত ২জি ও ৩জি অবসান ঘটিয়ে সেই স্পেকট্রাম ৪জি ও ৫জির জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকট ও ব্যাটারি সঞ্চয় সমস্যা মোকাবিলায় একাধিক পুরোনো প্রযুক্তি বহাল রাখাও ক্ষতির কারণ। ডেটাভিত্তিক শিল্পে যেতে না পারলে অপারেটররা ২জি থেকে যে আয় করছে, তা ধীরে ধীরে হারাবে। তাই আয় ধরে রাখতে হলে বাজার কাঠামো নতুনভাবে সাজাতে হবে।
তিনি আঞ্চলিক অভিজ্ঞতার দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারত কীভাবে ৫জি ইউজ কেস তৈরি করেছে, সেটিও আমাদের শেখা উচিত। সরকার, নিয়ন্ত্রক, অপারেটর ও ব্যবহারকারী—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ৫জি সফল হবে। শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না, প্রযুক্তি যেন যথেষ্ট সুবিধা দেয় এবং অপারেটররা যেন বিনিয়োগের সঠিক প্রতিদান পায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী, কমিশনার মাহমুদ হাসান ও মহাপরিচালক আমিনুল হকসহ রবির ঊর্ধতন কর্মকর্তারা।